লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি হাসপাতালে ২০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন
কমলনগর ও রামগতি হাসপাতালে ২০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে মোট ২০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলার প্রতিটিতে ১০ জন করে এই নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনা ও হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবি

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছিল ‘উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার্স (UHFPO) ফোরাম’। চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ। একই সঙ্গে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য UHFPO ফোরামের সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরবে

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং রোগীরা কোনোরকম ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শতভাগ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনা শীষ মজুমদার বলেন, “আজকের দিনটি রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং স্বস্তির। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আজ হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতো, যা চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করত। এখন এই সশস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আমাদের চিকিৎসক ও স্টাফরা একদম নির্ভয়ে, শতভাগ মনোযোগ দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং এই প্রক্রিয়াটিকে সফল করতে নিরলস কাজ করা UHFPO ফোরামের সব প্রতিনিধির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি ছিল। কমলনগরে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্যের যোগদানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। প্রায়ই দেখা যেত বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং চিকিৎসক-নার্সরা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিতে থাকতেন। এই সশস্ত্র পাহারার ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং রোগীরাও একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন।”