জবিতে জুতা চুরি নিয়ে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ১৩
জবিতে জুতা চুরি নিয়ে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ১৩

পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় জুতা চুরি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ উঠে মাইকেল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে মাইকেলকে শনাক্ত করে আটক করে রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে মাইকেলকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। হামলাকারীরা একটি বাসায় আশ্রয় নেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীদের খুঁজতে আসেন।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

শিক্ষার্থীরা সেখানে হামলাকারীদের ধরার জন্য বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রটেকশন দিয়ে বের করে নিয়ে আসে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আক্রমণকারীকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ এতে লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং অন্তত ৮ জন আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত দৈনিক সময়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রয় বলেন, "আমি ঘটনাটির ছবি তুলছিলাম। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে আমার পায়ে এবং শরীরে আঘাত লাগে।" বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অর্তকিত হামলা করে। আমার মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা কেটে যাওয়ার কারণে ৩টি সেলাই করতে হয়।"

সড়ক অবরোধ ও আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরে মূল আসামি মাইকেল ও আসিকুর রহমান আশিককে আটক করেছে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, "আমি বিষয়টি শুনেছি। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর গায়ে এভাবে অন্যায়ভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না। আমরা এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।"

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, "রাত ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ালে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় মুরগিটোলা মোড়ে একদল শিক্ষার্থী তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে থানায় নেওয়া হয়।" এ ঘটনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ (এডিসি) পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহতদের তালিকা

এতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলাম ও দৈনিক সময়ের জবি প্রতিনিধি অপূর্ব রয় আহত হন। অন্য আহতরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনিক কুমার দাস এবং একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম রাহাত, আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সজীব মৃধা, আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হেলাল উদ্দিন, ফিন্যান্স বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।