নেত্রকোনার মদন উপজেলার মহিউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়াকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। টানা এক যুগ (১২ বছর) মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাকে এককালীন আর্থিক অনুদানও দেওয়া হয়। বিদায়ী মুহূর্তে তাকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভিড় করেন এলাকাবাসী।
মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বিদায়
শুক্রবার (২৬ জুন) অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে স্থানীয়রা তাকে বিদায় জানান। মুসল্লি ও স্থানীয়রা প্রায় দুই কিলোমিটার পথ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়াকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এমন ব্যতিক্রমী বিদায় দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কেটের মুসল্লিরা।
দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি
সুলতু মিয়া একই উপজেলার পৌরসদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মদন পোস্ট অফিসেও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে সময়মতো আজান দেওয়া, মুসল্লিদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ এবং সেবামূলক মনোভাবের কারণে তিনি সবার ভালোবাসা অর্জন করেন। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেই স্থানীয়রা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেন।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ফকিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজেদুল হক সাজু, সাবেক ইমাম সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শফিকুল আলম ও হাফিজুর রহমানসহ অনেকে।
আবেগাপ্লুত মুয়াজ্জিন
বিদায়ী মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়া জানান, এমন ব্যতিক্রমী বিদায়ে তিনি মার্কেটের সব মুসল্লির প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি সবার জন্য দোয়া করেন এবং নিজের জন্যও দোয়া কামনা করেন। সবার ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে একপর্যায়ে তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত
মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম বলেন, দেশে অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিন অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করেন। বয়সের ভারে অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েন। সুলতু মিয়াকে এভাবে সম্মানজনক বিদায় জানানো সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার পরবর্তী জীবন যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে, সে জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। তাকে এভাবে বিদায় জানাতে পেরে আমরাও নিজেদের ধন্য মনে করছি।



