ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সংস্কৃতির চর্চা নতুন করে জেগে উঠেছে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে স্থানীয় সুস্থ সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে ছিল, কিন্তু ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপে সেই ধারা পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
অবকাঠামো উন্নয়নে সুপারিশ
উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে সংস্কৃতির এই ধারা এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে অবকাঠামো স্থাপনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় উপজেলার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল, যা জানার পর তিনি আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্রটি সংস্কার করে দেন।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিক্রিয়া
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীরেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, "আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের দেশের মূল সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর ছেলে-মেয়েরা গান নিয়ে রেওয়াজ করতে বসে না। যুবসমাজ মোবাইল ফোন নিয়ে বেশি সময় কাটায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুরের সংস্কৃতি বিকাশে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কামাল যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।"
শিক্ষাবিদের মতামত
অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, "আজকের তরুণরাই দেশের আগামী দিনের অমূল্য সম্পদ। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য অপসংস্কৃতি তাদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপসংস্কৃতিকে আলিঙ্গন করে তরুণরা নানাবিধ বিষয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই অপসংস্কৃতিই এখন সংস্কৃতির আসন দখল করে নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুবসমাজকে সংস্কৃতির ধারায় ফিরিয়ে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এতে উপজেলার সংস্কৃতিসেবীগণ তার প্রতি কৃতজ্ঞ।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য
দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত বলেন, "নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশের পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচার আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।"



