বিতর্কিত নামকরণের পর বগুড়ায় চার ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ
বিতর্কিত নামকরণের পর বগুড়ায় চার ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ

নামকরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক সমালোচনার মধ্যেই বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত চারটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বগুড়া জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসকদের তালিকা

মীরবাড়ী ইউনিয়ন (শিবগঞ্জ)-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হান্নান। এছাড়া মোকামতলা উপজেলার স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন এবং দিগন্ত ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মামুনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নামকরণ বিতর্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাসভবন ‘মীরবাড়ী’র নামে শিবগঞ্জের নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করায় এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন দুটির নাম প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

গত সোমবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমেই এই নামগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁর সন্তানদের সঙ্গে নামের মিল থাকাটা নিছকই কাকতালীয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, যদি আমার উদ্দেশ্য থাকত, তবে নামের আগে মীর যোগ করতে বলতাম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা সচল রাখার সুবিধার্থে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিবগঞ্জের ইউএনও-এর প্রস্তাবনার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

স্থানীয় অভিযোগ

অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে যে, এসব নামকরণের বিষয়ে সাধারণ মানুষ কিছুই জানেন না, এমনকি গণশুনানির যে দাবির কথা বলা হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিতর্কের মধ্যেই প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল।