সাভারে ১০ মাস গ্যাস সংযোগ বন্ধ, মহাসড়ক অবরোধে এলাকাবাসীর তীব্র বিক্ষোভ
সাভারে গ্যাস সংযোগ বন্ধ, মহাসড়ক অবরোধে বিক্ষোভ

সাভারে দীর্ঘ ১০ মাস গ্যাস সংযোগ বন্ধ, মহাসড়ক অবরোধে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদ

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় প্রায় ১০ মাস ধরে বৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অসহনীয় পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বসেন, যার ফলে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এই অবরোধে ব্যাপক ভোগান্তির মুখোমুখি হন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

দীর্ঘদিনের সংকট ও কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা

বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী, আমিনবাজার এলাকায় তিতাস গ্যাসের সংযোগ লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় ১০ মাস আগে বৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাপনে মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে আবেদন-নিবেদন করার পরও এই সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক বিভাগের কাছে রাস্তা কাটার অনুমতির জন্য আবেদন করা হলেও এখনও সেই অনুমতি মেলেনি। এই অনুমতি না পাওয়ার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকৃত কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের কণ্ঠে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাওন বলেন, "এটি কোনও নতুন সংযোগ নয়, এটি আমাদের পুরাতন সংযোগ। কিছু অজানা সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ বারবার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুরো ইউনিয়নের ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাইফুল ইসলাম নামে আরেক বিক্ষোভকারী তার মর্মস্পর্শী বক্তব্যে জানান, "আমিনবাজারে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু কেন দেওয়া হচ্ছে না তার সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত জবাব আমরা চাই। গ্যাসের অভাবে মা-বোনসহ পরিবারের সকল সদস্য মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিন মাস আগে কাজের অর্ডার দেওয়া হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।"

কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ ও ভবিষ্যত কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী আরেকজন প্রতিবাদকারী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "নির্বাচনের পর দুই মাস পার হয়ে গেলেও গ্যাস সংযোগ চালু হয়নি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আমরা আরও কঠোর ও ব্যাপক আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাবো।"

বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন, গ্যাস অফিস ঘেরাও এবং মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন।

অবরোধ প্রত্যাহার ও যান চলাচল স্বাভাবিকীকরণ

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদানের পর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। অবরোধ প্রত্যাহারের পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং তারা দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।