ঢাকায় ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান: সকালে উচ্ছেদ, বিকেলে আবার দোকান
ঢাকায় ফুটপাত দখলমুক্তকরণ: সকালে উচ্ছেদ, বিকেলে দোকান

ঢাকায় ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান: সকালে উচ্ছেদ, বিকেলে আবার দোকান

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে পাঁচদিনের ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রবিবার পর্যন্ত চলবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অভিযানের প্রথম দিনেই ফুটপাত দখলের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে, যা নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে এই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযানের প্রথম দিনের চিত্র

বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ফার্মগেট, মগবাজার ও বাংলামোটর এলাকায় মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে দেখা যায়, সকাল সাড়ে দশটার দিকে হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও বিকেল নাগাদ তারা আবার দোকান খুলে পণ্য সাজাতে শুরু করেছে। ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রমও চলতে দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী কাঠামো ও স্তূপীকৃত সামগ্রী ফুটপাত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, আবার কোথাও বিক্রেতাদের পথচারী চলাচলের পথেই দোকানদারি করতে দেখা গেছে।

ফলে পথচারীরা এখনো পুরোপুরি এই অভিযানের সুবিধা পাচ্ছেন না। অভিযানটি রাজধানীর মগবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, ঢোলাই পার, যাত্রাবাড়ীর ফারুক সরানি রোড, কাকলি আউটগোয়িং এলাকা, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, ফকিরাপুল ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন অংশে পরিচালিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হকারদের প্রতিক্রিয়া

কয়েকজন হকার ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, অভিযানটি দুই থেকে চারদিন চলবে বলে তারা ধারণা করছেন, যার ফলে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তারা যোগ করেন, সকালে অভিযান চললেও দুপুরের পর তারা তাদের দোকান পুনরায় খোলার পরিকল্পনা করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজের সামনের ফুটপাতে ১৭ বছর ধরে পোশাকের ব্যবসা করছেন নরসিংদীর আনারফান হোসেন। তিনি বলেন, অভিযানের পূর্ব তথ্য পেয়ে তিনি সকালে দোকান খোলেননি, কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা তার কাছে নতুন নয়, সাধারণত কয়েকদিন এমন অভিযান চলে, তারপর পরিস্থিতি আগের মতোই ফিরে আসে।

বাংলামোটরে ফুটপাতে চায়ের দোকান চালান আলী হোসেন। তিনি বলেন, পুলিশ সকালে তার দোকান সরিয়ে দিয়েছে। তিনি পরে বিকেল চারটার দিকে আবার দোকান খুলেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ সকালে এসেছিল, এবং পরের দিন থেকে তিনি দুপুরের পর দোকান খোলার পরিকল্পনা করছেন।

ডিএমপির বক্তব্য

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আরিফা জাহান প্রিয়তি বলেন, হকারদের আগেই তাদের পণ্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল এবং বুধবারের অভিযানে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর ব্যবস্থা শুরু হবে।

তিনি বলেন, আটটি বিভাগে অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের কাছ থেকে পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২৩ মার্চ জারি করা এক নোটিশে ডিএমপি বলেছে, রাজধানীজুড়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, শোরুম, ওয়ার্কশপ ও ভাসমান দোকান, যারা পথচারী এলাকায় পণ্য, গ্রিল, চুলা, চেয়ার ও অস্থায়ী কাঠামো স্থাপন করে।

এমন দখলদারিত্ব পথচারীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করে, যা জনগণের অসুবিধা বাড়ায় এবং যানজটে অবদান রাখে। নগরবাসীর চলাচল সহজ করতে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ফুটপাত ও রাস্তায় রাখা কোনো সামগ্রী অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবারের অভিযান সম্পর্কে প্রিয়তি বলেন, প্রথম দিনে মোট ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২৩ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদারিত্ব সরানো হয়েছে, পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নাগরিকদের প্রশ্ন

এমন ব্যাপকভাবে প্রচারিত উচ্ছেদ অভিযান আগেও পরিচালিত হয়েছে, যা শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে যে সর্বশেষ এই অভিযানটি আগের অভিযানের মতোই আরেকটি প্রতীকী প্রচেষ্টা কিনা, যা জনগণের অর্থ নষ্ট করে। তবে ডিএমপি কর্মকর্তারা বলেছেন, অভিযান শেষ হওয়ার পর পুনরায় দখলদারিত্ব রোধ করতে প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু এলাকা খালি করা হলেও বেশিরভাগ স্থান হকারদের দখলেই রয়েছে। ফলস্বরূপ, পথচারীরা এখনো অভিযানের পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় নগরবাসীর আশা, ডিএমপির কঠোর ব্যবস্থা ফুটপাত দখলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে সক্ষম হবে।