ঢাকাসহ ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি
সরকার দেশের আরও ১৪টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে মোট ৫৬টি জেলা পরিষদে এখন প্রশাসক শাসন চালু হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এবং 'জেলা পরিষদ আইন, ২০০০' এর অধীনে এই নিয়োগগুলো কার্যকর করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত জেলাগুলোর তালিকা
নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ পাওয়া জেলাগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে, এই জেলাগুলো হলো:
- ঢাকা
- নীলফামারী
- লালমনিরহাট
- পাবনা
- নড়াইল
- বরগুনা
- জামালপুর
- গাজীপুর
- মানিকগঞ্জ
- নরসিংদী
- ফরিদপুর
- হবিগঞ্জ
- চাঁদপুর
- ফেনী
এই নিয়োগের মাধ্যমে গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর আরও ১৪টি জেলা যুক্ত হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার কাঠামোয় একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রভাব
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই পদক্ষেপটি স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রমে সরাসরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতিশীলতা বাড়াতে পারে। তবে, কিছু বিশ্লেষক এটিকে স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা সীমিত করতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে আরও সুসংহত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে, যা জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে এই নিয়োগগুলোর কার্যকারিতা ও স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে আশা করা যায়।



