লক্ষ্মীপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে কার্যালয় থেকে বের করে তালা দেওয়ার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে না ফেলায় ছাত্রদলের নেতারা ইউপি সচিবের কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্না ইউপি কার্যালয়ে তালা দেন। তারা চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে তার কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বিকাল পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি এবং ডিভাইসটিও ফেরত দেয়নি ছাত্রদল।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল ও সচিব সুজন চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসেন। তারা চেয়ারম্যানকে তার কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই ঘটনার সিসি টিভির ফুটেজ নেওয়ার জন্য সচিবের কাছে যায়। সচিব ফুটেজ ডিলিট করতে পারে না বলে জানালে ছাত্রদলের নেতারা সিসিটিভির ডিভাইস (মনিটর) নিয়ে যান। তারা জানিয়েছে, এমপি তাদেরকে পাঠিয়েছে। ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় নাকি চেয়ারম্যান থাকতে পারবে না, এমন নির্দেশনা ছিল এমপির।
প্রতিবাদ ও বহিষ্কার
এদিকে চেয়ারম্যান বুলবুলকে হেনস্তা করায় ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ মিছিল করে। ভাটরা বাজারে রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে প্রতিবাদ মিছিল হয়। এ ঘটনায় জাহিদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্নাও ছিলেন। শনিবার (১৪ মার্চ) ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে দল্টা বাজার ভূঁইয়া বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ লোকজন ইফতার মাহফিল করেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের লোকজন ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমনকি ইফতার মাহফিলের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, "সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমি ইউএনওকে অবিহিত করেছি। এখনো ছাত্রদলের নেতারা ডিভাইসটি ফিরিয়ে দিয়ে যায়নি। ফুটেজ ডিলিট না করায় তারা ডিভাইসটি নিয়ে যায়। শুনেছি তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।"
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বাবুল বলেন, "আমি কোনো দলের সদস্যও না। এরপরও ছাত্রদলের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এসে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমাকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছে।"
এ ঘটনায় বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, "তিনদিন আগে ভাটরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করেছে। এজন্য আমরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এলাকার লোকজন সেখানে তালা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ কে নিয়েছে তা খবর নেব।"
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ফোন এসেছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানা নেই।
পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, "বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে জানানোর পর খোঁজ নেওয়া হয়নি। সচিবের কক্ষ থেকে যেহেতু ডিভাইস নিয়ে গিয়েছে, সে ঘটনায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলা হয়। চেয়ারম্যানের কক্ষের তালা দেওয়া নিয়ে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।"
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "ঘটনাটি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে থানায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।"
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা দেওয়া ও সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
