ঈদে কুড়িগ্রামে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে অতিরিক্ত নৌকা ও অষ্টমী পুণ্যস্নানের প্রস্তুতি
কুড়িগ্রামে ঈদে নৌপথে অতিরিক্ত নৌকা ও অষ্টমী পুণ্যস্নান প্রস্তুতি

ঈদে কুড়িগ্রামে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে যাত্রী সুবিধা ও অষ্টমী পুণ্যস্নানের ব্যাপক প্রস্তুতি

ঈদুল ফিতরের সময় কুড়িগ্রামে ঘরমুখো মানুষের জন্য চিলমারী-রৌমারী নৌপথ একটি পছন্দের পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যানজট এবং অন্যান্য অসুবিধা এড়াতে হাজারো যাত্রী এই নৌপথ বেছে নিচ্ছেন। এবারের ঈদে এই যাতায়াত ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত নৌকা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নৌপথে অতিরিক্ত নৌকা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়মিত সিরিয়ালের নৌকার পাশাপাশি অতিরিক্ত অন্তত ২০টি নৌকা যাত্রী পারাপারে যুক্ত করা হবে। চিলমারী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র জানান, "ঈদের সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে বাড়তি নৌকা রাখা হয়েছে। যাত্রীরা রিজার্ভ নৌকা ব্যবহার করতে পারবেন। ভাড়া নির্ধারণে ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য ভাড়া যাত্রী প্রতি ১২০ টাকা হতে পারে, যা আগের চেয়ে ২০ টাকা বেশি।" নৌ যাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হবে।

মহা অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবের প্রস্তুতি

আগামী ২৬ মার্চ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমী পুণ্যস্নান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই আয়োজন করা হবে। সোমবার চিলমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উল্লেখ করা হয়, পুণ্যস্নান উৎসব ও সংশ্লিষ্ট মেলা সফল করতে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে টিউবয়েল স্থাপন, অস্থায়ী টয়লেট ও পোশাক পরিবর্তনের তাবু স্থাপন, এবং তীরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ স্নানের জন্য পানির গভীরতা অনুযায়ী বাঁশ দিয়ে সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা

পুণ্যস্নান উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সিসি ক্যামেরা দিয়ে এলাকা মনিটরিং করা হবে এবং মাইকসহ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি বলেন, "পুণ্যার্থী ও পরিবহনে চাঁদা আদায় রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। বিশেষ টহল দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।"

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, "ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য, এটি সফল করতে ফায়ার সার্ভিসের টিম, ডুবুরি দল ও স্পিডবোট টহল রাখা হবে। তবে এই বড় আয়োজন সবার সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়, আমরা সকলে একসাথে কাজ করব।"