জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও এবার দল থেকে বড় পুরস্কার পেয়েছেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। তাকে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী দায়িত্ব
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে মাসুদ রানা প্রধানকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে একটি পৃথক প্রশাসক পদ সৃষ্টি হয়েছে, যা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
মাসুদ রানা প্রধান জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজগুলো আরও কার্যকর ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহিনুর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘মাসুদ রানা প্রধান জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বাসিত এবং গর্বিত বোধ করছি।’
মাসুদ রানা প্রধানের রাজনৈতিক পটভূমি
মাসুদ রানা প্রধান দীর্ঘদিন ধরে জয়পুরহাটে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও উল্লেখযোগ্য, কারণ তার পিতা মোজাহার আলী প্রধান জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদের কাছে পরাজিত হন, কিন্তু এই পরাজয় তাকে হতোদ্যম করেনি।
নির্বাচন-পরবর্তী কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থান
নির্বাচনে পরাজয়ের পর মাসুদ রানা প্রধান মনঃকষ্ট নিয়ে বসে থাকেননি; বরং তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকা জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলায় ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সান্ত্বনা ও উৎসাহ দিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক মাস পরেই সরকার তাকে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বিএনপি বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি হেরে যাইনি। আমাকে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে।’ এছাড়াও তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
এই নিয়োগকে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দলীয় কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং জয়পুরহাটের স্থানীয় উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
