বগুড়ায় সাতমাথা-বনানী সড়ক সংস্কারে যানজটের দুর্ভোগ
বগুড়া শহরের সাতমাথা-বনানী প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ চলাকালে এক লেন বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করায় শহরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে কলোনি বাজার এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অসুবিধা
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সড়কটি আগে থেকে ভালো অবস্থায় ছিল এবং বড় কোনো গর্ত বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি। আইনুর রুবেল নামে এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বলেন, "ভালো সড়কের কার্পেটিং তুলে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। বর্ষায় জলজট এড়াতে পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করাই বেশি জরুরি ছিল।"
অটোরিকশা চালক সেলিম হোসেন অভিযোগ করেন, "ঈদের আগে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে যানজট বাড়ানো হয়েছে। মাত্র ৩০০ মিটার পথ পাড়ি দিতে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে, যা আমাদের আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ
বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক সালেকুজ্জামান খান বলেন, ঈদের সময় শহরের প্রধান সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাতমাথা-শেরপুর রুটে গেটলক বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা, ইজিবাইক এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সংস্কার কাজের কারণে এক লেন বন্ধ থাকায় উল্টো পথে যান চলাচলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ট্রাফিক পুলিশকে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, বিশেষ করে কলোনি বাজারের ফটকে রিকশা ও অটোরিকশার প্রবেশ যানজট বাড়িয়ে দিচ্ছে।"
সংস্কার কাজের পেছনের কারণ ও সময়সীমা
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত ৮.৬৭ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজে প্রায় ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। মো. শরিফুজ্জামান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রতিনিধি, জানান যে গত ডিসেম্বরে কার্যাদেশ পাওয়া সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি।
তিনি বলেন, "নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদে রমজান মাসেই সংস্কার শুরু করা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, এবং বর্তমানে সড়কের এক লেনের অর্ধেক অংশ যান চলাচলের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।"
বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ দাবি করেন, সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন ছিল এবং কাজ যথাযথভাবে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, "কার্যাদেশ অনুযায়ী ডিসেম্বরে কাজ শুরু হলে ভালো হতো, কিন্তু নির্বাচনের কারণে বিলম্ব হয়েছে। সংস্কার শেষ হলেই উভয় লেন খুলে দেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কাজটি অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থের অপচয়। তারা দাবি করেন যে সড়কের পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নই বেশি জরুরি ছিল। যানজটের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা শহরের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন শহরবাসী, যাতে ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলানো যায় এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয়।
