বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের প্রশাসক পদে নিয়োগ: দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার
বিএনপি নেতা সোহেলের প্রশাসক পদে নিয়োগ, দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার

বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের প্রশাসক পদে নিয়োগ: দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ভিপি সোহেলকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রোববার (১৫ মার্চ) দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সোহেলের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই নিয়োগকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার একটি পুরস্কার হিসাবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে।

নিয়োগের প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন প্রশাসকরা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। তারা জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩ এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে বলে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও দলীয় আনুগত্য

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। এই পরিস্থিতিতে সোহেলসহ ছয়জন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী একজোট হয়ে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। কিন্তু দল মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনে কোনো সাড়া না দেওয়ায়, অন্যান্য বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরব কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও সোহেল দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন। তিনি দল মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণা চালান, যিনি নির্বাচনে বিজয়ী হন।

সোহেলের প্রতিক্রিয়া ও অতীত অভিজ্ঞতা

রোববার সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা বলার সময় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। আমি সারাজীবন দলের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা মেনে চলেছি। কখনো হাল ছাড়িনি। দল ও দলের সরকার যা ভালো মনে করেছে, আমি তাতেই আনন্দিত হয়েছি।" উল্লেখ্য, তিনি অতীতে দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাভোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তার এই নিয়োগকে অনেকেই দলীয় আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসাবে ব্যাখ্যা করছেন।

এই নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।