দুই দশকের দখলমুক্ত হলো কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত প্রায় দুই দশক পর অবৈধ দখল থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা ও সময়সীমার পর ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তাদের গড়ে তোলা শত শত দোকান ও স্থাপনা ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার পর এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িগুলো এখন প্রায় বিশ বছর পর প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দখলমুক্ত পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
প্রশাসনের চূড়ান্ত নির্দেশে স্বেচ্ছায় দোকান অপসারণ
জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা অপসারণের জন্য রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা现场ে উপস্থিত হয়ে মাইকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দ্রুত দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিতে শুরু করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রশাসনের এই চাপের মুখে ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তাদের দোকান ও মালামাল অপসারণের কাজ শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
ঈদের মুখে ব্যবসায়ীদের মর্মান্তিক বেদনা ও আর্থিক ক্ষতি
সুগন্ধা পয়েন্টের একজন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেলের কথায় ফুটে উঠেছে তাদের বর্তমান সংকট ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তিনি বলেছেন, “এখন আমাদের দোকান সরাতে হচ্ছে। রমজান মাস চলছে, ঈদ সামনে, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি জানি না আমার সন্তানদের কী জবাব দেব। গত এক মাস ধরে দোকান প্রায় বন্ধ থাকায় বিক্রি খুবই কম ছিল, তাই আমি এখনও তাদের জন্য ঈদের জামাকাপড় কিনতে পারিনি।”
অন্যদিকে, শেল বিক্রেতা শাহিদুল ইসলামের বক্তব্যে উঠে এসেছে তাদের আর্থিক ক্ষতির মাত্রা। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু ব্যথা তো রয়ে গেছে। ঈদের আগে ভালো ব্যবসার আশায় অনেকেই ঋণ নিয়ে দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে আমরা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।”
পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ট্যুরিজম সেল) মঞ্জু বিন আফনান এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায়িত্বে এলাকা থেকে দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা সকালে কিছু অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন। সেই সময়ের মধ্যেই তারা দোকানগুলো অপসারণ করেছেন।”
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট আফনান এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, “এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন উচ্চতর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা তাদের অভিযোগ বা দাবি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন, এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেগুলো বিবেচনা করা হবে।”
গৃহমন্ত্রীর নির্দেশে কক্সবাজার সৈকতের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান
উল্লেখ্য, গৃহমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে গত তিন দিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ছয় শত ত্রিশটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছে জেলা প্রশাসন। এই ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই সুগন্ধা পয়েন্টের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে। সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
