ঈদে যানজটের শঙ্কা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে তিন সমস্যা
ঈদে যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন সমস্যা

ঈদে যানজটের শঙ্কা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে তিন সমস্যা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ তিনটি প্রধান সমস্যায় জর্জরিত, যা আসন্ন ঈদুল ফিতরে পূর্বাঞ্চলের ১৮ জেলার লক্ষাধিক যাত্রীর জন্য মারাত্মক দূর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। পরিবহণ শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক শঙ্কা বিরাজ করছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখনো সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।

মহাসড়কের অর্ধেক জায়গা দখল ও চাঁদাবাজি

আট লেনের এ মহাসড়কের এক অংশের অর্ধেক রাস্তাজুড়ে মার্কেটের মালিকপক্ষ, রাজনৈতিক দলের নামধারী কর্মী ও প্রশাসনের কিছু লোক ফুটপাথ ব্যবসা করছে। এই দখলদারিত্ব থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা মার্কেট মালিক ও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পকেটে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ মজুমদার স্বীকার করেছেন, "আমরা অফিস থেকে বের হলে এ অল্প জায়গা পার হতে আধাঘণ্টা সময় লাগে। কিছু মানুষ ব্যবসা করছে, আর হাজার হাজার মানুষ যানজটের কবলে পড়ে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।"

গর্ত ও ডিভাইডার সমস্যা: মৃত্যু ফাঁদে পরিণত

শিমরাইল মোড়ে অনেকগুলো খানাখন্দ বা গর্ত রয়েছে, যার কারণে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয় এবং যানজট সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, মহাসড়কের ৪ কিলোমিটার অংশের কয়েকটি ডিভাইডার রাস্তার উপর কাত হয়ে পড়ে আছে, যা নির্দিষ্ট স্থানে না রাখায় দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ স্লো করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ডিভাইডারগুলোর ফাঁকা অংশ দিয়ে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা অবাধে পারাপার করছেন, ফলে এগুলো মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ উপবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ মজুমদার জানান, "আমরা একা উচ্ছেদ করতে পারছি না। আমরা এসপি অফিসে চিঠি দিয়েছি, ওনারা সময় দিলে উচ্ছেদ করা হবে। ভাঙ্গা রাস্তাগুলো ঈদের আগেই ছোট-বড় গর্ত সংস্কার এবং পড়ে যাওয়া ডিভাইডারগুলো যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে।" হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় এক বৈঠকে সমস্যাগুলো উত্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঈদের আগেই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পূর্বাঞ্চলের গন্তব্যে যাত্রা করতে হবে হাজার হাজার মানুষকে। যদি সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই মহাসড়ক দূর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, যা যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।