সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, উদ্যোক্তা সাময়িক বরখাস্ত
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা শিবু দাসের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভিডিও ভাইরাল ও ঘটনার বিস্তারিত
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ডৌবাড়ী ইউনিয়নের উদ্যোক্তার কার্যালয়ে চেয়ারে বসা এক ব্যক্তিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন নারী। টেবিলের ওপর কয়েকজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবু দাসের ছোট ভাই দীপু দাস ইউনিয়নের নারীদের কাছ থেকে কয়েক দিন ধরে ফ্যামিলি কার্ডের নামে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা করে নিচ্ছিলেন। গতকালও কার্যালয়ে নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রতিবাদ করে টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানালে দীপু দাস টাকা ফেরত দেন।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তিনি সবার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পরে চেয়ারে বসা ব্যক্তি ড্রয়ার থেকে টাকা বের করে উপস্থিত নারীদের ফিরিয়ে দেন, তাদের নাম জিজ্ঞাসা করে টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তার বরখাস্ত ও তদন্ত
ঘটনাটি জানাজানির পর ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা শিবু দাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউপির উদ্যোক্তার পদটি সরকারি কোনো পদ না হলেও এ ঘটনায় শিবু দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শিবু দাসের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউনিয়নের উদ্যোক্তার কার্যালয়ে নারীদের ভিড় দেখা গেছে, যা ঘটনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
