মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ইউএনওর অভিযান শেষে আবারও যানজট: লোক দেখানো পদক্ষেপ?
সাটুরিয়ায় ইউএনও অভিযান শেষে যানজট ফিরেছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ইউএনওর অভিযান শেষে আবারও যানজট: লোক দেখানো পদক্ষেপ?

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেনের অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় আবারও আগের মতো যানজট ফিরে আসায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই লোক দেখানো অভিযান?

প্রস্তুতি সভা ও পরিদর্শনের ধারাবাহিকতা

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে একটি প্রস্তুতি সভা করেন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইউএনও ইকবাল হোসেন সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উপজেলা সদর হাসপাতাল হয়ে বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক হেঁটে পরিদর্শন করেন এবং যানজট নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন।

এ সময় বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় রাস্তা ও ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদের সতর্ক করেন এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং না করার মৌখিক নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় বসা ছাগলের হাটের ইজারাদারকে ডেকে হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও। ইজারাদার সাময়িকভাবে বিষয়টি মেনে নিলেও ইউএনও চলে যাওয়ার পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যান বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

অভিযানে প্রতিবন্ধকতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযান চলাকালীন সময়েই বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি রড-সিমেন্টের দোকানে বড় ট্রাক থেকে রাস্তার ওপর মালামাল নামানো হচ্ছিল, যা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। এছাড়া বাসস্ট্যান্ডের বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল মার্কেট সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ীর দখলে রয়েছে। অভিযানের সময় আজাহার নামের এক ব্যক্তি ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করলেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে হেলো বাইক ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থায়ীভাবে যানজট নিরসনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। নইলে অস্থায়ী উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

উপস্থিতি ও ইউএনওর বক্তব্য

অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা, সাটুরিয়া থানার তদন্ত পরিদর্শক আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, "সাটুরিয়ার অন্যতম ব্যস্ততম এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যানজটে আক্রান্ত। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন সম্ভব। ঈদের আগে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।"

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করে, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে।