ডিএনসিসির প্রকৃত আর্থিক চিত্র: সাধারণ তহবিলে ২৫ কোটি টাকা নগদ জমা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এর ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র তুলে ধরেছেন সংস্থাটির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে বর্তমানে নগদ অর্থের পরিমাণ মাত্র ২৫ কোটি টাকা। এই তথ্য মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নগদ তহবিলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
এই ২৫ কোটি টাকার নগদ তহবিলের মধ্যে চলতি মাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের জন্য কার্যত অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১২ কোটি টাকা, যা করপোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। মো. শফিকুল ইসলাম খান আরও উল্লেখ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে নগদ জমা বা ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল এই ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে ছিল প্রায় ৬৪২ কোটি টাকা, যা মূলত জরুরি দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত এবং তা নগদায়ন করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্ত করেছেন।
সাবেক প্রশাসকের দাবির ব্যাখ্যা
সম্প্রতি দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক দাবি করেছিলেন, করপোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জমা রয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রশাসক প্রকৃত হিসাব তুলে ধরেন এবং ব্যাখ্যা দেন যে, ওই অর্থের বড় একটি অংশ জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল এবং জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) এর মতো নির্দিষ্ট খাতে স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষিত। এসব তহবিলের অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যায় না, যা আর্থিক নীতিমালার একটি অপরিহার্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, করপোরেশনের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব স্থায়ী আমানত নগদায়ন না করার বিষয়ে প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিএনসিসি প্রশাসকের মতে, করপোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার স্বার্থেই এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে। এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকা, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল বলে জানানো হয়েছে।
