ঢাকার জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির জরুরি পদক্ষেপ
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো দ্রুত খনন ও পরিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সোমবার (২ মার্চ) সকালে মিরপুর এলাকার ‘প্যারিস খাল’ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
পরিকল্পিত খাল খনন ও নাগরিক সুবিধা
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “পরিকল্পিতভাবে খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। খালের দুই পাড়ে পর্যায়ক্রমে হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা একসঙ্গে নিশ্চিত করা যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ ডিএনসিসির কাজকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
খাল দখলমুক্তকরণে কঠোর পদক্ষেপ
খাল দখল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা খালগুলো উদ্ধারে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সব খাল দখলমুক্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর মতো সমস্যা মোকাবিলায় খালগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য
পরিদর্শনকালে সঙ্গে থাকা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই এই এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খালগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় গভীরতা বজায় রাখা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।” তার মতে, এই পদক্ষেপ ঢাকার নাগরিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব ও জরুরি অবস্থা তুলে ধরে।
ডিএনসিসির এই পদক্ষেপ ঢাকার জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন বর্ষায় এর সফল বাস্তবায়ন নাগরিকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
