দেবীদ্বারে সংসদ সদস্যের কঠোর বক্তব্য: থানা চালায় দালাল, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধের নির্দেশ
দেবীদ্বারে এমপির কঠোর বক্তব্য: থানা চালায় দালাল

দেবীদ্বারে সংসদ সদস্যের কঠোর বক্তব্য: থানা চালায় দালাল, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধের নির্দেশ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) উদ্দেশ করে কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘আপনার থানা আপনি চালান না। আপনার থানা চালায় হেলাল (দালাল)। কোনো দালাল নয়, আপনার থানা আপনাকে চালাতে হবে।’ বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দালালমুক্ত প্রশাসনের আহ্বান

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে বেতন ভাতা দেয়, তা নিয়েই চাকরি করতে হবে। ঘুষ–দুর্নীতি চলবে না। থানার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো দালাল থাকতে পারবে না। কেউ নিয়মের বাইরে চলতে পারবে না।’ তিনি ওসিকে সতর্ক করে বলেন, তার সেকেন্ড অফিসার ও এসআই ভবতোষ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং টাকা ছাড়া কাজ করেন না।

গোমতী নদীর মাটি লুটের অভিযোগ

হাসনাত আবদুল্লাহ গোমতী নদী থেকে মাটি লুটের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘মাটিখেকোরা মাটি কাটার আগে পুলিশকে জানায়। ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্পটে যেতে যেতে পুলিশ আবার তাদের সচেতন করে দেয়। তখন স্পটে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না।’ তিনি দাবি করেন, থানা পুলিশের কিছু সদস্য এই অনিয়মে জড়িত এবং সমঝোতার ভিত্তিতেই মাটি কাটা হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেবীদ্বারে যে পাঁচটি স্পট থেকে মাটি কাটা হয়, ওই পাঁচটি স্পটের মধ্যে একটি স্পটেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়। যদি এক কোদাল মাটি কাটা হয়, সে ক্ষেত্রে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। না হলে আমি ধরে নেব, আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই তারা মাটি কাটার সুযোগ পাচ্ছে।’

ওসির প্রতিক্রিয়া

বুধবার বিকেলে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এখানে কোনো ভুল–বোঝাবুঝি হচ্ছে। থানা অন্য কেউ চালানোর সুযোগ নেই। আমরা নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পেশাদারত্বের সঙ্গে মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, দালালের বিষয়ে তারা সতর্ক এবং থানাকে শতভাগ দালালমুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

সংসদ সদস্যের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘আমি আজকেই বিষয়টি শুনলাম এমপি সাহেবের কাছ থেকে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সেখানে অনেকে দেখলাম ফেসবুকে লাইভ করছে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা লাইভ করতে আমার জীবনেও দেখিনি। যেহেতু এমপি সাহেব দুজন অফিসারের বিষয়ে কথা বলেছেন—বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা

হাসনাত আবদুল্লাহ সভায় বলেন, ‘জনগণ আমাদের বিনা পয়সায় ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে আমি একটি পয়সাও খরচ করিনি। এই ইলেকশনে আমার নিজের ১০০ টাকাও খরচ হয়নি। তাই আমার দায়বদ্ধতা হচ্ছে দেবীদ্বারের মানুষের কাছে।’ তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষের প্রচলন থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জনগণকে সেবা দিতে আহ্বান জানান।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনা দেবীদ্বারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।