শরীয়তপুরে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতনের ওপর হামলার অভিযোগে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান শিকদারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বহিষ্কারের কারণ ও প্রক্রিয়া
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান শিকদারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। এতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে অটোরিকশা করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করলে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় মিজানুর রহমান শিকদার ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান খোকন বলেন, বহিষ্কারের বিষয়ে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনও পাইনি। এর আগের হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান শিকদার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে তখন আমি একটি টেন্ডার সংক্রান্ত কাজে নড়িয়ায় ইউএনওর কার্যালয়ে ছিলাম। কারা ওই শিক্ষকের ওপর হামলা করেছে, তা আমি জানি না।
এই ঘটনা স্থানীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
