মাদারীপুরে সড়ক নির্মাণে কলাগাছের ব্যবহার, অনিয়মের অভিযোগে ভেঙে ফেলা হচ্ছে গাইডওয়াল
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইটের গাঁথুনির নিচে কংক্রিটের বিমের পরিবর্তে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ওই অংশের গাঁথুনি ভেঙে কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি মসজিদের সামনে প্রায় ৩০ মিটার অংশে গাইডওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের মালামালের পাশাপাশি কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় লোকজন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
চরকাকইর এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এটি ব্যবহার করে উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন। গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ দেওয়া ছাড়াও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’ ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশকারী হায়দার আলী যোগ করেন, ‘গাইডওয়াল নির্মাণে বিম না দিয়ে কলাগাছ দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। সরকারি টাকায় এ ধরনের কাজ করার চেয়ে না করাই উত্তম।’
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মনির কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জমাদ্দার দাবি করেন, ‘রাজমিস্ত্রিকে এমন কাজ করতে বলা হয়নি। যখন বিষয়টি নজরে এসেছে, তখন কলাগাছ তুলে বিম দিয়ে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। আমি কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেব এবং আশা করি, স্থানীয়ভাবে আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।’ এলজিইডির শিবচর উপজেলা কার্যালয়ের সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘আমি নির্বাচনের ডিউটিতে ব্যস্ত ছিলাম, তাই কলাগাছ দেওয়ার বিষয়টি জানতাম না। ঠিকাদার কোনো অনিয়ম করলে তা মেনে নেওয়া হবে না, এবং পাঁচ মিটার অংশে ঝামেলা হয়েছিল, যা পরে ঠিক করা হয়েছে।’
উচ্চ পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া
এলজিইডির মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘গাইডওয়াল নির্মাণে কলাগাছ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি অনিয়ম নয়, বরং গুরুতর অপরাধ। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, এবং আমি ঘটনাটি দেখছি। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পের তথ্য
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শিবচর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং ১৫৩ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় মাদারীপুর শহরের মনির কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয় মাস আগে কাজ শুরু হলেও নানা কারণে তা বন্ধ ছিল, এবং সম্প্রতি আবার কাজ শুরু হয়েছে, যদিও অধিকাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি।
