এনসিপির মুখপাত্রের অভিযোগ: ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের হুমকি
এনসিপি: সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের হুমকি

এনসিপির মুখপাত্রের অভিযোগ: ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের হুমকি

তড়িঘড়ি করে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি মনে করেন, এই নিয়োগ নির্বাচনে হেরে যাওয়াদের বিএনপির ‘প্রাইজ পোস্টিং’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এ কথা বলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ করে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা)।

প্রশাসকদের তালিকা

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালাম
  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান
  • খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু
  • সিলেট সিটি করপোরেশনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী
  • নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান
  • গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার

তাঁদের মধ্যে শফিকুল ও নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আবদুল কাইয়ুম, সাখাওয়াত হোসেন ও শওকত হোসেন দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসার সাথে সাথে যেখানে ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার কথা, সেখানে তারা তাদের দলীয়, বিভিন্ন সময় বঞ্চিত কিংবা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদেরকে একধরনের প্রাইজ পোস্টিং করলেন। ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেন।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্টভাবে মেয়াদ উল্লেখ করা নেই। প্রজ্ঞাপনটি দেখে মনে হচ্ছে, আমৃত্যু হয়তো তাঁরা প্রশাসক থাকবেন। অথচ সরকারের যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কিন্তু সময়সীমাটা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি

দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধিশূন্য উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এর ফলে দেশের জনগণকে প্রতিটি ছোট ছোট নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রতিটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার জন্য উপযুক্ত। এমন সময়ে নির্বাচন না দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক। একই সঙ্গে এটি নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করবে। যিনি প্রশাসক হচ্ছেন, তিনি যদি পদে থেকে নির্বাচন করেন অথবা তাঁর দলের কাউকে সহযোগিতা করেন, তাহলে অন্যদের জন্য নির্বাচন করাটা কঠিন হয়ে যাবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাটা এখানে কমে যায়।

এনসিপির নির্বাচনী প্রস্তুতি

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে, প্রার্থী ঘোষণা এমনকি নির্বাচনী জোটের ঘোষণার বিষয়গুলো একদম শেষ সময়ে গিয়ে হয়েছে। যার কারণে যতটুকু প্রস্তুতির সময় ও সুযোগ প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যায়নি। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি।

সারজিস আলম বলেন, খুব দ্রুতই দেশের প্রতিটি সাংগঠনিক অঞ্চলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের কাজ শুরু হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং পৌরসভায় এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দেশের সব সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

জোটের অবস্থান

সারজিস আলম আরও বলেন, এনসিপি ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটে আছে এবং একসঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকায় যাচ্ছে। তবে জামায়াত এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এনসিপিও এককভাবে প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। তবে শেষ সময়ে যদি জনগণের ও দেশের স্বার্থে মনে হয় যে ১১-দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারে, তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী–৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবদুল হান্নান মাসউদ।