স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির প্রস্তুতি: সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব ও ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানান।
প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণার সময়সীমা
সারজিস আলম উল্লেখ করেন যে, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, "আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দ্রুত প্রাথমিকভাবে প্রার্থী যাচাই-বাছাই শুরু করব। উপজেলা এবং সাংগঠনিক অঞ্চলে গিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।"
এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম এনসিপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা আগামীতে নতুন একটা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাচ্ছি। এনসিপি তৃতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে আমরা নির্বাচনে পার হয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের ভুল না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকবেন।
এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি
সারজিস আলম জানান, এনসিপি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "মানুষের কাছে নেতাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা যত বেশি থাকবে, তারাই মূল্যায়ন পাবে।"
তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত এনসিপি ও জামায়াত এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটকেন্দ্রিক স্থানীয় নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের অন্যান্য উপস্থিতি
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপি। এতে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ। এই সম্মেলনে সারজিস আলমের বক্তব্য দলের নির্বাচনী কৌশল ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে।
সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব ও এনসিপির প্রস্তুতির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দলটি তার সংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও জনসমর্থন নিয়ে আশাবাদী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
