নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের পর অবশেষে মূল্যায়িত হলেন খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনসহ ছয়টি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মঞ্জুকে কেসিসির প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক নিয়োগের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পদচ্যুত করে। এরপর থেকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনাররা মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবার স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা হলো।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন। তার এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দলীয় কোন্দলকে তার পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মঞ্জুর রাজনৈতিক যাত্রা

নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য এবং একই বছর কেসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দুটি নির্বাচনেই তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবে ২০০৮ সালে তিনি তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে পরাজিত করে সারা দেশে সাড়া ফেলেছিলেন।

২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মঞ্জুকে বাদ দিয়ে কেন্দ্র থেকে মহানগর ও জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ১২ ডিসেম্বর খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর তাকে শোকজ এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলীয় কোন্দল ও পুনর্মূল্যায়ন

এরপর থেকে মঞ্জু রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, কিন্তু তিনি মাঠ ছাড়েননি। তার অনুসারীদের নিয়ে বিএনপির সব কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তবে দলীয় কোনো পদবি না থাকায় খুলনা-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পড়েন মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

গত বছরের শেষদিকে বিএনপির দলীয় প্রধান তারেক রহমান ফোন করে মঞ্জুকে খুলনা-২ আসনে কাজ করতে বলেন এবং পরবর্তীতে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেন। তবে মঞ্জুর সঙ্গে নগর বিএনপির দীর্ঘদিনের দূরত্ব লাঘব হচ্ছিল না। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের মাধ্যমে এই দূরত্ব কিছুটা কমলেও নির্বাচনের সময় মহানগরের বেশিরভাগ নেতা মঞ্জুর পাশে ছিলেন না।

প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও নতুন দায়িত্ব

অনেকেই মনে করেছিলেন, মঞ্জুর রাজনৈতিক পদ নেই বলে তাকে প্রার্থী করা উচিত নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। তিনি মাঠের নেতা ও ত্যাগী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অবশেষে মূল্যায়িত করেছেন। সামাজিকমাধ্যমে অনেক নেতা লিখেছেন, আগামীতে খুলনা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এটাই শেষ সুযোগ।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। গত পরশুদিন প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকেছিলেন। তিনি কিছুটা অসুস্থ বোধ করছেন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই খুলনায় ফিরবেন। কেসিসির প্রশাসক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খুলনাবাসীর জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন। সব সুখ-দুঃখে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করবেন এবং খুলনার উন্নয়নের জন্য যা করণীয় সবকিছু করবেন। খুলনাকে মাদকমুক্ত ও দখলমুক্ত করতেও তিনি কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।