ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপ
ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপ

ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উত্তেজনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ

ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্তের আশ্বাস প্রদান করে। এই ঘটনায় পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের তদারকি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নির্মাণকাজের বিবরণ ও অভিযোগের মূল কারণ

ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে ১৪নং ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৮ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স মির্জা কনস্ট্রাকশন নামে সিরাজগঞ্জের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজের তদারকিতে রয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ শেখ, এবং নির্মাণকাজ গত তিন মাস আগে শুরু হয়েছিল।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারী বাহার শেখ ও শামিম হোসেন ওরফে সামিউল অভিযোগ করেন যে, ব্যবহৃত ব্লকে নিম্নমানের উপাদান রয়েছে, পুরুত্ব ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে মাত্র তিন ইঞ্চি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, পলিথিন ও ময়লা মিশ্রিত মাটি এবং নিম্নমানের ইট-খোয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

উত্তেজনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে, নির্মাণকাজের দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কাজে কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে আমিও দেখেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি গ্রুপ এই অনিয়মকে পুঁজি করে টাকা দাবি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’ তিনি আশ্বাস দেন যে, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই ঘটনা ফরিদপুরে সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে গুণগত মান ও তদারকির গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পৌরসভার দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের উপর এখন নজর রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধ করা যায় এবং জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন থাকে।