খুলনা সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিযুক্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জু
সরকার খুলনা সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের ঘোষণা দেয়।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত বিবরণ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অধীনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের মেয়রের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন এবং জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর রাজনৈতিক পটভূমি
বর্ষীয়ান রাজনীতিক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালের আগে তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির পদে ছিলেন, যার মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন।
অতীত নির্বাচনী ইতিহাস
- ২০০৮ সালের নির্বাচন: বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে জয়লাভ করেছিলেন।
- ২০১৮ সালের নির্বাচন: তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু উভয় নির্বাচনেই তিনি পরাজিত হন।
প্রশাসক নিয়োগের প্রেক্ষাপট
নজরুল ইসলাম মঞ্জু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ববর্তী প্রশাসক মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, এবং এই নিয়োগ সেই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
