বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক

বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। আজ সোমবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রথম আলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, 'আমাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলাম। এই নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং নগরবাসী যেন যথাযথ সেবা পান, সেটা নিশ্চিত করাই হবে আমার কাজ।'

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসেবা

স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। ছাত্রদল, যুবদল হয়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও সমাজসংগঠক। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের দমন-নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে তিনি কর্মিবান্ধব নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। এ ছাড়া সিলেটে বন্যা ও করোনাকালে ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেও তিনি আলোচিত হন।

বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও একাগ্রতা বিবেচনায় অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন। তবে এ আসনে দলটি মনোনয়ন দেয় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালিককে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মালিক ১৯ বছর পর দেশে ফিরে মনোনয়ন পেতে তৎপর হন।

কাইয়ুমের কয়েকজন অনুসারী বলছেন, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সৎ, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে কর্মী-সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এই দপ্তর সম্পাদক যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ভোটের মাধ্যমে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত সিলেটে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সমন্বয়কারী ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন

এ ছাড়া বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকও ছিলেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। এ ছাড়া গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার সব কটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজের সমন্বয়কও ছিলেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলার সব কটি আসন ঘুরে দলের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া

কাইয়ুমের দুজন সমর্থক বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর মতো নিবেদিতপ্রাণ ও কর্মিবান্ধব ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ায় দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা খুব খুশি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কাইয়ুম চৌধুরী সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আহতও হন।

প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ ক–এর উপধারা (১)–এর অনুবৃত্তিক্রমে এই ছয়জনকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই নিয়োগ সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।