মেয়র শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত, তবে নির্বাচন চান দ্রুত
শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ ২০২৯, নির্বাচন চান দ্রুত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বৈধ। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি জানিয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে নগরের হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেয়রের বক্তব্য ও আইনি প্রেক্ষাপট

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দ্রুত নির্বাচন চাই, যাতে আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তাঁকে অপসারণ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন এবং তিনি ৩ নভেম্বর শপথ নেন। স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর হয়।

নির্বাচনী ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ববর্তী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৫ সালে নির্বাচিত হন এবং তাঁর মেয়াদ ২০২০ সালের ৫ আগস্ট শেষ হয়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যায় এবং ছয় মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে শাহাদাত হোসেনই একমাত্র মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদ পুরোটাই অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। তাই আমার মেয়াদ শপথ নেওয়ার দিন থেকে গণনা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার তাঁকে পাঁচ বছরের কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, যা তাঁর মেয়াদের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্বাচনের আহ্বান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শাহাদাত হোসেন সারা দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়া উচিত। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা না থাকায় জনগণ পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

তিনি প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, ‘প্রশাসক দিতে পারবে না, কারণ আমাকে প্রশাসক বদলি করে মেয়র করা হয়েছে।’ মেয়র হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনের জন্য সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।