কুমিল্লায় গৃহায়ণমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান: আইনের বাইরে স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) কুমিল্লায় আইনের শাসন মেনে চলার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
আইনের শাসন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করব না। আইনের শাসন মেনেই চলতে হবে। অতীতে যা ঘটেছে, তা নতুন করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমার মেয়াদকালে আইন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়নই প্রাধান্য পাবে। আইনের বাইরে গিয়ে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। আইন মেনেই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগে যাঁরা আইন অমান্য করে উঁচু দালান নির্মাণ করেছেন, সেসব ভবন এখন ভেঙে ফেলা হয়তো সমীচীন হবে না। তবে অবৈধ দালানের মালিকদের জরিমানা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে যেন কেউ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করতে না পারেন, সে জন্য সরকার কঠোর হবে। এ ছাড়া অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কুমিল্লা শহরকে যানজটমুক্ত রাখার অঙ্গীকার
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী কুমিল্লা শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যে কুমিল্লায় আমি ছোটবেলায় বড় হয়েছিলাম, সেটা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব ছিল। এখন আর সেটা নেই। অনেক বড় বড় অট্টালিকা হয়েছে এবং অটোরিকশার সংখ্যা বেড়েছে। তাই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মিলে শহরের পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান, যাতে এ নগরটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ইতিবাচক মনোভাব
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে কুমিল্লাবাসীর সঙ্গে আমার মতের মিল রয়েছে। কারাগারটি শহরের বাইরে নির্মাণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক।’ এই উদ্যোগ শহরের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিগত প্রকল্প পুনরায় চালুর ঘোষণা
মন্ত্রী আরও জানান, বিগত সময়ে নেওয়া স্থগিত বা বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় চালু করা হবে। এটি স্থানীয় উন্নয়নে গতি আনতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিতি
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম, জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গৃহায়ণমন্ত্রীর এই বক্তব্য কুমিল্লার উন্নয়নে আইনের শাসন ও পরিকল্পনার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশার বার্তা বয়ে আনতে পারে।
