নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে এই যানজটের উদ্ভব হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন একই স্থানে আটকে রয়েছে।
যানজটের বিস্তারিত বিবরণ
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে মৌচাক থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক জুড়ে এই তীব্র যানজট বিরাজ করছে। যানজটের কারণে যাত্রী এবং পরিবহণ চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সকাল ৮টার পর থেকে এই যানজটের সূচনা হয় এবং তা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
পেয়ার আলী নামের এক যাত্রী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গাড়িতে উঠার পর শিমরাইল বাসস্ট্যান্ডের সামনেই প্রায় ৫০ মিনিট ধরে আটকে আছি। মাত্র দেড় ঘন্টার পথে যানজটের কারণে কয় ঘণ্টা লাগবে তা নিয়ে আমি গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছি।"
যানজটের কারণসমূহ
আঞ্চলিক বাসের দুজন চালক জানান, সড়কে গাড়ির তুলনামূলক বেশি চাপ রয়েছে। এছাড়া মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়েতে বিদ্যমান যানজটও এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শাহাবুর এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, "গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মূলত মদনপুর হয়ে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়ের সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ওই সড়ক দিয়ে ধীর গতিতে গাড়ি পারাপারে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই যানজটের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
যানজটের প্রভাব ও পরিস্থিতি
- যানজটটি মৌচাক থেকে মদনপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- যাত্রীদের ভ্রমণ সময় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের জন্য মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
- পরিবহণ চালকরা যানজটের কারণে তাদের সময়সূচি বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
- সড়ক সংস্কার কাজ চলমান থাকায় যানবাহনের গতি ব্যাহত হচ্ছে, যা যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই যানজট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিণ এলাকায় ঘটেছে এবং এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে প্রভাবিত করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি লাঘব করা যায়।
