গাজীপুরে নির্মিত সড়ক উদ্বোধনের আগেই দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মিত একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এই সড়কটি ভেঙে কয়েক ফুট নিচ পর্যন্ত দেবে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তাদের দৃঢ় অভিযোগ, এই নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে, যার ফলস্বরূপ নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নির্মাণ প্রকল্পের বিবরণ ও বাস্তবায়ন
সিটি কর্পোরেশন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইউসিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছিল। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নকাজ দুটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো ছিল নিম্নরূপ:
- ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম সড়ক নির্মাণ
- ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং সম্পন্ন করা
- প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি
- রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণ
যাইহোক, কাজ শেষ হওয়ার অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দেবে যাওয়ায় নির্মাণের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এলাকাবাসীরা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই রাস্তার ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল, কিন্তু ঢালাই শেষ হওয়ার মাত্র ৩ দিন পরই রাস্তাটি ভেঙে যায়। এছাড়াও রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নির্মাণকাজের দুর্বলতা নির্দেশ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
কাশিমপুর নামাবাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান সরকার বলেন, "রাস্তাটি দুই সপ্তাহ আগে করা হয়েছে নিম্নমানের মালামাল সামগ্রী দিয়ে। কাজ করায় মাত্র দুই সপ্তাহ না যেতেই রাস্তাটি ধসে পড়ে গেছে। এত বড় একটা দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে এ রাস্তাটির কাজের ক্ষেত্রে অথচ দায়িত্ববান লোকেরা চুপচাপ রয়েছেন।" এলাকাবাসীরা আরও দাবি করেন যে, এই রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঢালাইও প্রদান করা হয়নি। তারা কাজের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, মহানগরীর কাশিমপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় কয়েক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার রাস্তা প্রথমে ফাটল ধরে, পরে সেখানে ভেঙে কয়েকফুট দেবে গেছে। এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান এই ঘটনাকে "ন্যাচারাল ডিজাস্টার" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "নদীর পাড়ে রাস্তাটা হচ্ছে, এটা ন্যাচারাল ডিজাস্টার। পরিকল্পনার কোন ত্রুটিও থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলা হবে।" অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ বলেন, "আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখে বিস্তারিত বলতে পারবো।" এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, কর্তৃপক্ষ এখনও পুরোপুরি তদন্ত সম্পন্ন করেনি এবং ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সময় লাগতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, গাজীপুরের এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি উদ্বোধনের পূর্বেই দেবে যাওয়ায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং জনগণের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
