ভোট কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আলী আহম্মদ ফরাজী নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ফরাজী ওই উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে তালতলী উপজেলার ১৮০ নং কাজির খাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে ফিরছিলেন আলী আহম্মদ ফরাজী। এ সময় পাজরাভাঙ্গা নামক এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে ফরাজীকে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরাজীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, "খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, দুপক্ষের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও দুপক্ষের বিরুদ্ধেই আলাদা আলাদা মামলা রয়েছে।"
ওসি আরও উল্লেখ করেন, "এ ঘটনায় ভোট সংশ্লিষ্ট বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই বলে আমাদের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলাফল।" পুলিশ এখন হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত জোরদার করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এমন হিংসাত্মক ঘটনা আগে থেকেই চলমান ছিল। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই ভোট দেওয়ার পর এমন ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে এটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এখন নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
