স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে নতুন বিধি যুক্তের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের অঙ্গীকার দেওয়ার যে বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেছিলেন ইসির কর্মকর্তারা, সেটি বাদ দিয়েই এ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। একইভাবে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়াও অনুমোদন করেছে ইসি।
মতামতের জন্য দলগুলোর কাছে খসড়া পাঠানো
বুধবার এসব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামত দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মতামত পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অঙ্গীকারনামা বিধান বাদ
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনে ইসি। ওই নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে অঙ্গীকারনামায় সই করার বিধান যুক্ত করা হয়। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়াতেও অঙ্গীকারনামায় সই করার বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ইসি ওই অঙ্গীকারনামা যুক্তের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। এরফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্দলীয় নির্বাচন বিবেচনায় আচরণ বিধিমালায় অঙ্গীকার যুক্ত করেনি ইসি।
প্রচারণার নিয়ম
জানা গেছে, খসড়া আচরণ বিধিমালায় নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমান বাহনে প্রচার চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে প্রচার চালানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রার্থিতা বাতিলের বিধান
আচরণ বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে একই পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।



