হবিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক আহত
হবিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এতে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হন। পরে প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কারাভোগ শেষে জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি আবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান।

সংঘর্ষের ঘটনা

আজ সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং মিজানুর রহমান কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের হস্তক্ষেপ

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ার গ্যাসের তিনটি শেল ও পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওসি নাজমুল হক জানান, তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হবিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।