পারিবারিক কলহে স্ত্রীর শাড়ি দিয়ে ফাঁস নিলেন যুবক
পারিবারিক কলহে স্ত্রীর শাড়ি দিয়ে ফাঁস নিলেন যুবক

পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পারিবারিক কলহের জেরে মো. হাসিবুর হাসান নামে এক যুবক তার স্ত্রীর শাড়ি দিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিবুর হাসান (২৮) একই গ্রামের আ. হান্নান মুন্সির বড় ছেলে।

পারিবারিক বিরোধ ও ঘটনার বিবরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবার সঙ্গে হাসিবুরের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিরোধ চরমে পৌঁছলে ঈদের আগে তিনি স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা মধুখালীর ডুমাইন গ্রামে রেখে আসেন। এই দম্পতির ৪ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিরোধের কোনো সমাধান করতে না পেরে অভিমান করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে স্ত্রীর শাড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস নেন হাসিবুর।

উদ্ধার ও মৃত্যু

পরে তার বোন শাহানাজ আক্তার বিষয়টি বুঝতে পেরে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি হাসিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাদিম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রীর বক্তব্য

নিহতের স্ত্রী স্মৃতি বেগম জানান, 'আমার শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আমরা ভিন্ন খাই। যা মেনে নিতে পারেননি আমার শাশুড়ি। এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হলে আমার স্বামী আমাকে মারে। পরে আমার শ্বশুরের বাড়ি আসার খবর পেয়ে আমাকে বাপের বাড়িতে রেখে আসে আমার স্বামী। কারণ আমার শ্বশুর প্রচণ্ড রাগী মানুষ। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে চাপ দেয় হয় স্ত্রী রাখবা না হয় বাপ-মা।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দিলে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়- স্ত্রীকে ছাড়তে পারবে না। তখন তারা এমনভাবে তাকে মানসিক প্রেশার দেয় যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আমার স্বামী।'

পুলিশের তদন্ত

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লাশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে একটি ইউডি মামলা হয়েছে।'