ক্রয়ডনের নতুন সিভিক মেয়র ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইসলাম
ক্রয়ডনের সিভিক মেয়র হলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইসলাম

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ক্রয়ডন কাউন্সিলের নতুন সিভিক মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও কাউন্সিলর মুহাম্মদ ইসলাম। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আগামী এক বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সিভিক মেয়র রিচার্ড চ্যাটার্জী নবনির্বাচিত মেয়র মুহাম্মদ ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। লন্ডনের ক্রয়ডন সিটির সিভিক মেয়র মুহাম্মদ ইসলামকে বরণ করে নিতে বুধবার বিকেলে ক্রয়ডনের টাউন হলে যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের ঈদের দিনে সরাসরি এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই নতুন মেয়রের দায়িত্বভার হস্তান্তর করা হয়। প্রথা অনুযায়ী নতুন মেয়রের গলায় গোল্ড মেডেল-চেইন পরিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত মেয়রের স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের পাশাপাশি কাউন্সিলের নির্বাচিত কাউন্সিলররা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন মেয়রের বক্তব্য

নির্বাচিত হওয়ার পর সিভিক মেয়র মুহাম্মদ ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের এই ক্রয়ডন সিটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী একটি বরো। এই বরোর প্রতিটি মানুষের জন্য জনসেবামূলক দায়িত্ব পালন করা আমার কর্তব্য। তা ছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে– সিভিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত জীবন ও পটভূমি

কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলাম সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার এক কৃতী সন্তান। তিনি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং লেবার অ্যান্ড কো-অপারেটিভ পার্টির নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে ক্রয়ডন কাউন্সিলে সেলহার্স্ট ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি মূলত ইপসউইচ শহরের বাসিন্দা হলেও ১৯৮০ সাল থেকে ক্রয়ডনকে নিজের বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ক্রয়ডনের সেলহার্স্ট এলাকায় বসবাস করছেন। তার পরিবারে স্ত্রী ফারহানা ইসলাম এবং চার সন্তান রয়েছে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি পেশায় একজন অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ক্রয়ডনে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পূর্ববর্তী দায়িত্ব ও সমাজসেবা

ওইদিন (২৭ মে) বার্ষিক কাউন্সিল সভায় আনুষ্ঠানিক মেয়র-বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ক্রয়ডনের সিভিক মেয়র নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি একই কাউন্সিলে (২০২৫-২৬) ডেপুটি সিভিক মেয়র হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোসাইটি অব ক্রয়ডন’-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এই সংস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।