জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতায় নির্মিত বাঁশের সাঁকোতে স্বস্তি ফিরেছে ১৫ গ্রামের মানুষের জীবনে। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর খালের ওপর নির্মিত ১৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রশস্ত এই বাঁশের সাঁকো এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসায় পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের চরম দুর্ভোগে থাকা আমতৈল, কৃষ্টপুর, মূলগাঁও, রামনাথপুর, চারুয়ালিয়া, পাঠানপাড়া, গঙ্গানগর, কাগজীপাড়া, ভাটিপাড়া, রানীগাঁওসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের জন্য সাঁকোটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাঙা সেতুর ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে কৃষ্টপুর খালের ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে তিন বছর আগে সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এই খাল পার হয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ কলমাকান্দা উপজেলা সদর ও নেত্রকোনা জেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুনই উচ্চ বিদ্যালয়, গুতুরা উচ্চ বিদ্যালয়, গুতুরা দাখিল মাদ্রাসা ও রামনাথপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের একমাত্র পথও এটি। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।
দ্রুত উদ্যোগ ও স্বস্তি
দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয়রা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আনলে তিনি দ্রুত সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সাঁকো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. স্বপন খান বলেন, আগে ভাঙা সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর ছিল। এখন নতুন করে সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি। এজন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভাইয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে খুবই কষ্ট হতো। এখন সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।
স্থায়ী সেতুর আশ্বাস
এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্টপুর খালের ওপরের সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা অন্তত নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এখানে স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হবে।



