ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সোহানী শিফা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। ঢাকা লালবাগের মেয়ে সোহানী শিফা একজন নারী থ্রিলার লেখক। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি তিনি ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হঠাও’ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।
ঘোষণার বিবরণ
গত ৭ মে ফেসবুকে এক পোস্টে ডিএসসিসির মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সোহানী শিফা লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। সবার দোয়া এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রিয় মানুষদের উৎসাহে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। তারা মনে করে পুরান ঢাকার এই দুর্দশায় আমি আলোকবর্তিকা হবো। আমার জন্মস্থানের মাটি আমার জন্য সোনার চেয়ে খাঁটি।’ পরে ১২ মে আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এবার মেয়র পদে কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়। ঢাকার মেয়ে সোহানী জয়ী হবে। ইনশাআল্লাহ।’ সোহানি আরও লিখেছেন, ‘আমি যখন মেয়র হবো, ১ দিন ময়লা না নিলে লাইসেন্স বাতিল হবে।’
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি
এর আগে গত ৯ মে রাজধানীর শাহবাগে ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ শীর্ষক নিজের একক অবস্থান কর্মসূচিতে সোহানী শিফা বলেন, ‘এক দিন আগে উচ্ছেদ চলছিল, এক দিন পরে রাস্তায় একেবারে মেশিন দিয়ে দাগ কাটলেন। তা-ও আবার সরকারি রাস্তা সরকারি মেশিন দিয়ে, কেন? আপনি যদি ১২০ টাকা, ১৫০ টাকা কেজি চাল খেতে না চান, আপনাকে হকারদের পাঠাতে হবে গ্রামে, তার এলাকাতে কৃষিকাজ করতে। যে কৃষক ক্ষেতে কাজ করে তার তো কৃষিকাজটা অনেক কষ্টের, সে ঢাকায় এসে অটোরিকশা খুব সহজেই চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়েছি এই কারণে যে আমি আজকে ৬০ টাকা কেজি চাল খেতে পারছি। কিন্তু সামনে আমি ১২০ টাকা কেজি চাল খেতে পারব না। এখন একটা প্রশ্ন হতে পারে যে চালের সঙ্গে হকারের কী সম্পর্ক? আপনারা দেখেছেন যে সম্প্রতি সিলেটের সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় অসংখ্য ধানক্ষেত ডুবে গেছে এবং ধান ডোবার কারণে কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই যে ধান ডুবে যাচ্ছে, কেন ধান ডুবে যাচ্ছে? এর মূল সমস্যা হচ্ছে শ্রমিক সংকট। আমরা এখনো যান্ত্রিক হতে পারিনি। আমাদের যে অ্যাগ্রিকালচারাল সেক্টর আছে, এটাকে আমরা এখনো যান্ত্রিক করতে পারিনি। আমাদের এখনো মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। আপনি গ্রামে যান, গিয়ে দেখবেন, ওইখানে পুরুষ মানুষ নেই। কেন পুরুষ মানুষ নেই? তারা ঢাকায় এসে কেউ সবজি বিক্রি করছে, তারা ঢাকায় এসে কেউ ফল বিক্রি করছে, কেউ কাপড় বিক্রি করছে। কিন্তু ধান কাটার যখন সময় হয়, তখন শ্রমিক থাকে না। আমাদের শ্রমিকদের খুব খারাপভাবে ঢাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যে কৃষক ক্ষেতে কাজ করে, তার তো কৃষিকাজটা অনেক কষ্টের। সে ঢাকায় এসে অটোরিকশা খুব সহজেই চালাচ্ছে। কৃষিকাজের চেয়ে অটোরিকশা চালানো বেশি সহজ তার হিসাবে। এই সহজটা কি আমরা মেনে নিতে পারি? আপনাকে যদি মশা কামড়ায়, তাহলে কি আপনি মশা মারবেন না? মশার তো অধিকার আছে রক্ত খাওয়ার। তা না হলে সে বাঁচবে কী করে? তাই বলে কি আপনি মশা মারবেন না? আপনার যে সেলফ প্রটেকশন— এটার জন্য আপনাকে মশা মারতেই হবে। মশা মারা এখন তো বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। আপনাকে মশা মারতেই হবে। ঠিক একই ব্যাপার হচ্ছে হকার। হকার উচ্ছেদ করতেই হবে। আপনি যদি ১২০ টাকা, ১৫০ টাকা কেজি চাল খেতে না চান, আপনাকে হকার উচ্ছেদ করতেই হবে। আপনাকে হকারকে পাঠাতে হবে গ্রামে, তার এলাকায় কৃষিকাজ করতে।’



