সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে বিতর্ক, এনসিপির আখতার হোসেনের তীব্র প্রশ্ন
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে বিতর্ক, এনসিপির প্রশ্ন

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক

সংসদ অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন জুলাই অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাক্রম তুলে ধরে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংবিধান প্রশ্নের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকা নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদে এসেছি, সকলেই সেটা জানি।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাক্রম

আখতার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, ‘সেই প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো, তারপর ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময়টাতে বাংলাদেশের সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল?’ তিনি বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকারের পদত্যাগের ফর্মুলা কী? সংসদ যে ভেঙে দেওয়া হলো ৬ তারিখে, সেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার ফর্মুলাটা কি সংবিধানে বর্ণনা করা ছিল? তার কোনো কিছুই সেই সময়টাতে সংবিধান অনুযায়ী হয় নাই। কারণ, সেই সময়টাতে চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষের জীবনের বিনিময়ে নতুন এক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে জনগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত হয়েছিল।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্তর্বর্তী সরকার ও গণভোট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। এই সরকারের অধীন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে যে সংসদ গঠিত হবে, তা প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে বলে বলা হয়েছিল। সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপির সংসদ সদস্যরা এই শপথ নিলেও বিএনপি নেয়নি।

বিএনপির অবস্থান ও বিরোধিতা

বিএনপির মত হলো, সংবিধান সংশোধনের আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর হবে না। এই মতের বিরোধিতা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান গত রোববার সংসদে মুলতবি প্রস্তাব তোলেন। মঙ্গলবার সংসদে তার ওপর আলোচনা চলে।

আখতার হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘সেই আলোচনায় আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেব, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, শাহাদাত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনার প্রসঙ্গ তাঁরা সংসদে এসে কীভাবে ভুলে গেলেন, সেটা আমি তাঁদের কাছে জানতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আবু সাঈদের জন্মভূমিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দয়া করে গণভোটে “হ্যাঁ” দিন। দয়া করে গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার কথা বলে তাঁরা এখন এসে গণভোটের রায় মানতে কেন চান না, সেই প্রশ্নটা আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে করতে চাই।’

তিনি জুলাই সনদ অনুসারে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যদি নতুন বাংলাদেশের কথা বলেন, আপনারা কি আবার আগের মতো করে নূরুল হুদার মতো একজনকে নির্বাচন কমিশনার বানাতে চান? নাকি আপনারা সেই ২০০১ থেকে ২০০৬-এর মতো আপনাদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করে কে এম হাসানের মতো একজনকে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে এসেছিলেন, তারপরে ১৭টা বছর বাংলাদেশকে যে মাশুল দিতে হয়েছিল, সেই ইতিহাসগুলো যে আপনারা ভুলে গিয়েছেন, সেটা আমাদের কাছে বড়ই দুঃখ লাগে।’

গণভোটের রায়কে অসাংবিধানিক বলাটা ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং সংসদকে কলঙ্কিত করা বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করা হোক বা না হোক, গণভোটকে অবৈধ করার কোনো সুযোগ নেই।