সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ রোববার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেওয়া এক নোটিশে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
নোটিশের মূল বক্তব্য
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা উচিত ছিল। তবে আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শফিকুর রহমান গত ১৫ মার্চ সংসদে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো উত্থাপন করেছিলেন। তখন সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে বিরোধী দল এই নোটিশ পেশ করেছে।
গণভোট ও শপথ গ্রহণের প্রসঙ্গ
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর সরকার গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে, যা গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হয়।
এই গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়, যা জনগণের পক্ষে রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলস্বরূপ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে দুটি শপথ পাঠ করতে আইনানুগভাবে বাধ্য বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য পৃথকভাবে উভয় শপথ পাঠ করেছেন।
অধিবেশন আহ্বানে বিলম্বের সমালোচনা
নোটিশে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা করা হয়নি।
জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনো কাম্য নয় বলে মন্তব্য করে নোটিশে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে নোটিশের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার তখন বলেছেন, বিষয়টি পরে দেখবেন। এই প্রতিক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই নোটিশ এবং আহ্বান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। বিরোধী দলের এই পদক্ষেপ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



