সংবিধান বাতিলের হুঁশিয়ারি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চাঁদপুর ইফতার মাহফিলে বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন না আনলে সংবিধান বাতিলের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে এনসিপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
সংবিধান পরিবর্তনের দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "বাংলাদেশে নাকি এখন পরিবর্তন চলছে, এই পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে সংবিধান থেকে। মূল সমস্যা হলো এটি হলো ভারতীয় সংবিধান, শেখ মুজিবের সংবিধান। ফ্যাসিবাদী সংবিধান আমরা চাই না। আমরা বাংলাদেশের সংবিধান চাই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো উন্নয়ন করতে হবে, অন্যথায় এটি ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে এবং বাতিলের কর্মসূচিতে যেতে হবে।
রাজনৈতিক অভিযোগ ও সমালোচনা
তিনি অভিযোগ করেন, এই সংবিধানের কারণে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং গত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ছিলেন। তিনি বলেন, "এই সংবিধান কাউকে রক্ষা করতে পারেনি। এটি পরিবর্তন করলে শেখ হাসিনার মতো আর কেউ স্বৈরাচারী হতে পারবে না।" এছাড়া, তিনি কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ খেলাপিদের নিয়োগ, এবং "ভক্ষক বাহিনী" গঠনের সমালোচনা করেন, যারা নদী-খালও ভক্ষণ করে বলে দাবি করেন।
চাঁদপুরের উন্নয়ন ও স্থানীয় ইস্যু
চাঁদপুরের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "চাঁদপুর থেকে অনেকেই মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু চাঁদপুরের উন্নয়ন হয় না।" তিনি নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বালুখেকোদের ঠেকানোর আহ্বান জানান, অন্যথায় অসহায় মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হবে বলে সতর্ক করেন। তিনি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বন্ধ এবং চাঁদপুর থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সরানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।
উপস্থিতি ও সমর্থন
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন:
- জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম
- জেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া
- চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ
- নাগরিক পার্টি চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান
- ছাত্রশক্তি চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক সাগর হোসেন
স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে সংবিধান সংশোধন ও স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



