সংবিধান সংস্কার পরিষদ শপথে বিতর্ক: রুমিন-ইশরাকের বেরিয়ে যাওয়া
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান একটি রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা করে। ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ইশরাক হোসেন দেরিতে আসার কারণে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি। ফলস্বরূপ, তিনি জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেন। একই সময়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানাও শপথ নেন।
শপথগ্রহণ পরবর্তী ঘটনা
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে শুরু করেন। এই মুহূর্তে, ইশরাক হোসেন ও রুমিন ফারহানা শপথস্থল থেকে বেরিয়ে যান। তাদের এই পদক্ষেপ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনার জন্ম দেয়।
তাদের বেরিয়ে যাওয়ার পর, জামায়াতের ৬৮ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং শপথপত্রে নিজ আসন উল্লেখ করে সই করেন। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যান্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান
এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। এই অনুষ্ঠানটি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু করার পূর্বশর্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। ইশরাক হোসেন ও রুমিন ফারহানার শপথগ্রহণ ও পরবর্তী বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিবিধির ইঙ্গিত দিতে পারে।
