জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিনজনকে আজ রোববার সকাল থেকে আর দেখা যায়নি। তাঁদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে এলাকাবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গতকাল শনিবার রাতে নড়াইল থেকে স্বজনেরা সীমান্তে আসার পর বিজিবি তিনজনকে নিয়ে যায়। তবে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপির কমান্ডার শামসুজ্জামানের দাবি, শনিবার রাতেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্যরেখা থেকে তাঁদের সরিয়ে নেয়।
ঘটনার বিবরণ
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে দ্রুত সরে যান। এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে সীমান্তসংলগ্ন সড়ক থেকে আটক করেন গ্রামবাসী। পরে বিষয়টি বিজিবিকে জানালে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে শূন্যরেখায় নিয়ে যান। এর পর থেকে তাঁরা বিজিবির পাহারায় শূন্যরেখায় ছিলেন।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
আটক ব্যক্তিদের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নাম শেখ হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর নাম নাছিমা বেগম। তাঁদের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। সঙ্গে থাকা অন্য নারী তাঁদের নিকটাত্মীয়। কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা দেশটির কারাগারে ছিলেন।
স্বজনের বক্তব্য
শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে সোহাগ শেখ। তিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি শনিবার রাতে একটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে পৌঁছান বলে স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মা-বাবা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথম দিকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও প্রায় এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার সকালে জয়পুরহাট সীমান্তে তাঁদের আটকের ভিডিও দেখে রাতে আমি সেখানে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি।’ তিনি তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ
সীমান্ত-সংলগ্ন গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা বলেন, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্যরেখায় ছিলেন। পরে বিজিবির সদস্যরা তাঁদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা শূন্যরেখায় আর কাউকে দেখতে পাননি। রাতেই তিনজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।



