সাভারের আশুলিয়ায় বংশী নদীতে ডুবে গুরুতর আহত রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ীর উত্তর পাশে বংশী (গাজীখাল) নদীতে শিক্ষকসহ মোট নয়জন শিক্ষার্থী গোসল করতে নামে। এ সময় রিফাত পানিতে তলিয়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়।
নিহত রাতুল হাসান রিফাত জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার কোনাপাড়ায় আবুল হোসেনের ভাড়াবাড়িতে থাকত এবং স্থানীয় আল-ক্বলম প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই স্কুলের শিক্ষক ইমরান নয়জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গাজীখাল এলাকায় বংশী নদীতে গোসল করতে যান। গোসলের একপর্যায়ে রিফাতসহ আরও দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে অন্যরা পানি থেকে উঠে এলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে সহপাঠী, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমছুর রহমান, মাসুদ রানা ও অন্যরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমছুর রহমান বলেন, "আমরা আল-ক্বলম স্কুলের শিক্ষককে বারবার নিষেধ করেছি। বলেছি, এখানে পানির স্রোত বেশি, বাচ্চাদের নিয়ে নামবেন না। এরপরও তিনি নয়জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নদীতে নেমেছেন।"
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চেষ্টা করেও শিক্ষক ইমরানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়েছি। লাশ গত রাতেই ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"



