দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নতুন ভাঙন, ৪০০ মিটার ঝুঁকিতে
দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন, ৪০০ মিটার ঝুঁকিতে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে সাবেক ১ নম্বর ফেরিঘাটের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটসহ প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। পদ্মা নদীর পাড়ের দুটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছে।

ভাঙনের বর্তমান অবস্থা

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর—এই তিন ঘাট সচল আছে। ঈদের আগে নতুন করে ৫ নম্বর ঘাট তৈরি করা হলেও এটি মিডওয়াটার লেভেলে হওয়ায় চালু করা হয়নি। ৬ নম্বর ঘাটটি হাইওয়াটার লেভেলের হওয়ায় সেটিও চালু করা যাচ্ছে না। ১ ও ২ নম্বর ঘাট কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হওয়ায় তা আর চালু করা হয়নি।

লঞ্চঘাট-সংলগ্ন ১ নম্বর (বন্ধ) ফেরিঘাটের মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এর অদূরে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায়ও অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ কারণে ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটসহ পুরো ফেরিঘাট এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ

১ নম্বর ফেরিঘাট সড়কে স্ত্রীকে নিয়ে কৃষিপণ্য (মৌরি-ধনে) রোদে শুকাচ্ছিলেন মজিদ শেখের পাড়ার বাসিন্দা টোকন মণ্ডল। ক্ষোভ ও আতঙ্কের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদীতে হালকা পানি বাড়ার সঙ্গে পাড়ও ভাঙতে শুরু করে। তিন-চার দিন ধরে এই এলাকায় ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন আমাদের ঘরের কাছে এসেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফেরিঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার ১০০ পরিবার ঝুঁকিতে পড়বে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, ‘আমরা সব সময় ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছি। ভাঙনে যখন বাড়িঘর নদীতে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন আসে বালুর বস্তা ফেলতে, সরকারি কর্মকর্তারা আসেন ঘাট পরিদর্শনে। অথচ আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমরা এভাবে আর কত দিন থাকব?’ তিনি বলেন, মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার অধিকাংশ পরিবার দুই থেকে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বসতি গড়েছিল। আবারও যদি ভাঙনের শিকার হয়, তাহলে এসব পরিবার যাবে কোথায়?

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট ভাঙনপ্রবণ এলাকা। বর্ষা এলেই ভাঙন দেখা দেয়। সাবেক ১ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘাটটি সচল না থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। সচল ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস প্রথম আলোকে বলেন, নতুন করে ভাঙনে ফেরিঘাটসহ স্থানীয় পরিবারগুলো ভাঙনঝুঁকিতে আছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ী সদর উপবিভাগের প্রকৌশলী সুব্রত কুমার প্রথম আলোকে বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার অংশ নতুন করে ভাঙনঝুঁকিতে আছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে কিছু প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন তাঁরা। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।