তিস্তার ঢলে ডুবে শিশু নাহিদের মৃত্যু, চার বছর আগে একই পরিবারে বড় ভাইয়ের করুণ পরিণতি
তিস্তার ঢলে ডুবে শিশু নাহিদের মৃত্যু, আগে বড় ভাইও নিহত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ঢলের পানিতে ডুবে নাহিদ (৫) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বাড়ির পাশে (পাকার মাথা) খেলতে গিয়ে সে নদীর উপচেপড়া পানিতে তলিয়ে যায়।

পরিবারে দ্বিতীয় মৃত্যু

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এটি এই পরিবারে তিস্তার প্রথম আঘাত হলেও চার বছর আগে ঠিক একইভাবে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের বাগেরহাট আবাসন প্রকল্প এলাকায় নাহিদের বড় ভাই নাজমুল আবাসনের পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল। একই পরিবারে চার বছরের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের এমন সলিল সমাধি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিশুটির বাবা মেনাজুল (৩৫) জীবিকার তাগিদে কুমিল্লায় অবস্থান করলেও মা নাজমা (২৮) বাসায় থাকেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম জানান, "কী আর বলব, আমরা এমনিতেই বর্তমানে পানিবন্দি। তিস্তার হাত থেকে কবে আমাদের মুক্তি মিলবে তা আমাদের আর জানা নেই। অবুঝ ছোট্ট ছেলেটা (নাহিদ) এভাবে চলে যাবে কখনো ভাবি নাই। ওর মা বলল- দুপুর ১টার সময় ফুটবল নিয়ে খেলতে গেল। আর ৪টার দিকে তিস্তার উজানের ঢলের পানিতে ভাসতে থাকা অবস্থায় নাহিদের লাশ উদ্ধার করল এলাকাবাসী। ঠিক চার বছর আগে আবাসনের পুকুরে ডুবে ওর বড়ভাই নাজমুলও মারা যায়। অসহায় পরিবারটি আজ নিঃস্ব হয়ে গেল।"

স্থানীয় লক্ষ্মীটারি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুঃখজনক ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "তিস্তার আগ্রাসী রূপ ও চারপাশের অরক্ষিত জলাশয়ের কারণে আমাদের শিশুরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের সবার উচিত নিজেদের বাড়ির ছোট বাচ্চাদের প্রতি সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা, যেন এমন বুক খালি করা ঘটনা আর কোনো মায়ের জীবনে না ঘটে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আকতার জানান, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। নিঃস্ব এই অসহায় পরিবারটির আপনজন হয়ে থাকতে চাই। শিশুটি ও তার নিঃস্ব পরিবারটির জন্য সবার দোয়া চাই।"