ভোলার দৌলতখান উপজেলার একটি পুকুর থেকে আবু শাহাদ (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিন মাস্টারের বাড়িসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
আবু শাহাদ একই এলাকার মোসলেউদ্দিনের ছেলে। স্বজনদের দাবি, পুকুরের মালিকের ধাওয়া ও হামলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুই শিশুর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবের পুকুরপাড়ে খেলছিল আবু শাহাদ। একপর্যায়ে রাকিব সেখানে এসে শিশুদের ধাওয়া দিলে তিনজনই পুকুরে পড়ে যায়। অন্য দুই শিশু সাঁতরে উঠে এলেও আবু শাহাদ আর উঠতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর অনুসন্ধান চালিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য
পরিবারের ভাষ্য, পুকুরে থাকা অপর দুই শিশু জানিয়েছে, গোসল করতে নামায় পুকুরের মালিক রাকিব তাদের ধাওয়া করেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে এ ঘটনার পরপর অভিযুক্ত রাকিব গা ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
ওই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে দৌলতখান মডেল থানা–পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
দৌলতখান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আজ শনিবার দুপুরে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



