নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ নয়জনকে পুশ ইন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে সীমান্তের ওপারে ভারতের অংশের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে সীমান্তের আলো জ্বলে উঠলে সাপাহারের আদাতলা এলাকায় শূন্যরেখায় থাকা ওই নয়জনকে আর দেখা যায়নি।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল সারা দিন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে অবস্থান করছিলেন ওই নয়জন। তবে বর্তমানে তাঁদের কোনো অবস্থান বা চলাচল দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে বিএসএফ তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।’
ঘটনার বিবরণ
এর আগে গতকাল ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর আদাতলা বিওপির ২৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে নারী–শিশুসহ নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বিজিবি ওই চেষ্টা প্রতিহত করে। নয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু ছিল। সংবাদ পেয়ে আদাতলা সীমান্তচৌকির বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দার অভিজ্ঞতা
কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, ‘ওই নয়জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টায় আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম, তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিলেন। রাত ১২টায় সীমান্তের আলো নিভিয়ে যায়। আলো যখন বন্ধ ছিল, ওই সময় কান্নাকাটির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আলো ফিরে আসে। তখন জিরো পয়েন্টে মাঠের মধ্যে থাকা ওই নয়জনকে আর দেখা যায়নি। আমার ধারণা, ওই সময় বিএসএফ তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।’
বিজিবির সতর্কতা বৃদ্ধি
ঘটনার পর নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জেলার প্রতিটি সীমান্তচৌকিতে (বিওপি) টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারিও জোরদার করা হয়।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে ৫ জুন ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ৪০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়।



