মিয়ানমার সংঘাতে কক্সবাজার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি
মিয়ানমার সংঘাতে কক্সবাজার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির সংঘাত ও বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিজিবির বিশেষ টহল ও নজরদারি

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকাল ৩টায় টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়। টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীরদ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিমান হামলার শব্দে আতঙ্ক

বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট শব্দ টেকনাফ পর্যন্ত ভেসে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেকেই ভূমিকম্প ভেবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য

শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়ার ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও একটি বিস্ফোরণ হয় এবং সীমান্তের ওপারে আগুনের শিখা দেখা যায়। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে যাচ্ছেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডংয়ের চারলাইন ঘাঁটিতে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশু নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের অবস্থান

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফে শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডংসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমার বাহিনী নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।